শুত্রুবার | ঢাকা ২৭ নভেম্বর ২০০৯ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪১৬ | ৯ জিলহজ ১৪৩০
সার্চ
আর্কাইভ
দিন :
মাস :
সাল :
প্রথম পাতা
প্রথম পাতা -এর আর্কাইভ
বলুন তো ট্রেনটি কোথায়?
1.09%
 
গড় রেটিং:
 
রেটিং :
Bookmark and Share
যে করেই হোক বাড়ি যেতে হবে। তাই জীবন-মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করে এমন কসরত ঈদে বাড়িমুখো মানুষকেই মানায়। রাজধানীর বিমানবন্দর স্টেশন থেকে তোলা ছবি । মাহবুব হোসেন নবীন
সমকাল প্রতিবেদক
দৃশ্যটি দেখে কালবিলম্ব না করে বলা যায়_ এ তো বিমানবন্দর রেলস্টেশন। রেলস্টেশন, ট্রেন কোথায়? শুধু মানুষ আর মানুষ। ট্রেন তো একদম দেখা যাচ্ছে না। ছাদ দেখে বোঝা যায়, এটি প্লাটফর্ম। ছবিটি গতকাল কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে তোলা। ট্রেনের ছাদ মানুষে মানুষে ছেয়ে গেছে। তাই ট্রেনটি আর দেখা যাচ্ছে না। এভাবেই বিপদের ঝুঁকি নিয়ে ঈদে বাড়ি ফিরছে রাজধানীবাসী। ট্রেনে ঠাঁই নেই, বাসেও একই অবস্থা। লঞ্চ দেখলে তো মনেই হয়, এই বুঝি ডুবে যাবে। এত কষ্ট, এত বিড়ম্বনা তবু ঈদে বাড়ি যাওয়া চাইই চাই।
বৃহস্পতিবার ঈদের ছুটি শুরুর আগের দিন আসন না পেয়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বাস, ট্রেন ও লঞ্চের ছাদে উঠছেন আসনের সমপরিমাণ ভাড়া দিয়ে। টিকিট বিড়ম্বনার পাশাপাশি আরেক ভোগান্তি ছিল যানজট। দীর্ঘ সময় যানজটে নাকাল হতে হয় বাড়িফেরা যাত্রীদের। পশুর হাটের জন্য নগরীর তিনটি বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন ও লঞ্চটার্মিনালে পেঁৗছাতে যাত্রীদের প্রথম দফা
দুই থেকে তিন ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে। এরপরও ভোগান্তির শেষ নেই। মহাসড়কগুলোতে তীব্র যানজটের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয় বাসে ঘরে ফেরা মানুষদের। ফেরি পারাপারে পড়তে হয় আরেক দফা যানজটে। এত ভোগান্তির পরও প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে পারার আনন্দের হাসি ফুরায়নি কারও।
ট্রেন : গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশনে আগের দিনগুলোর চেয়ে ভিড় ছিল বেশি। তুলনামূলক বেশি ভিড় ছিল বিমানবন্দর রেলস্টেশনে। ট্রেনের আসনের চেয়ে আসনবিহীন টিকিটধারী যাত্রীরাই চেপে বসেন ট্রেনে। ভেতরে কিংবা ছাদে কোথাও তিলধারণের ঠাঁই নেই। ঠাসাঠাসি ভিড়ের মধ্যে মহিলা-শিশু নির্বিশেষে দাঁড়িয়ে অথবা ছাদে চেপে স্বজনদের সঙ্গে ঈদযাত্রা করেছেন। একই সময় কমলাপুর স্টেশনে টিকিট কাউন্টারের সামনে ছিল দীর্ঘ লাইন। যারা অগ্রিম টিকিট নিতে পারেননি তারা আসন ছাড়া টিকিট সংগ্রহে ব্যস্ত। এদিকে ট্রেনের সার্ভিস নিয়ে অভিযোগেরও শেষ নেই যাত্রীদের। দেরিতে ট্রেন ছাড়ার অভিযোগ গা-সওয়া হয়ে গেছে। যাত্রীরা জানালেন, প্রতিটি ট্রেনই প্রায় আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা দেরি করে ছেড়েছে। জামালপুরগামী অনু জানান, আসন না পেয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছি। তবুও ভালো লাগছে বাড়িতে সবার সঙ্গে ঈদ করতে পারব ভেবে। ময়মনসিংহগামী জিল্লুর রহমান বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই ছাদে যাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীও এ ব্যাপারে নির্বিকার। তিনি বলেন, সবচেয়ে আগে প্রয়োজন ট্রেনের অবকাঠামো উন্নয়ন আর ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো। তাহলে মানুষের এত ভোগান্তি হবে না।
এ ব্যাপারে স্টেশন ম্যানেজার এমএ জিন্নাহ জানান, বারবারই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ছাদে ওঠার ব্যাপারে কঠোর হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরও আমরা আমাদের সীমিত সম্পদের মধ্যে জনস্রোতকে জায়গা দিতে পারছি না। কিন্তু ঘরমুখো মানুষের বিপুল চাপ সামাল দেওয়ার কোনো উপায় নেই।
বাস : গাবতলী কী সায়েদাবাদ, নগরীর প্রতিটি বাসটার্মিনালে বাড়িফেরা মানুষের স্রোত। সকাল থেকেই নগরীর সব বাসটার্মিনালে ছিল উপচেপড়া ভিড়। মহাখালী বাসটার্মিনালের শৌখিন পরিবহনের টিকিট মাস্টার ফারুক হোসেনের কাছ জানা গেল, যে বাস সন্ধ্যা ছয়টায় ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসবে তারও টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে দুপুর ৩টার আগে। ওই বাস ঢাকায় পেঁৗছে আবার কখন ময়মনসিংহ যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু যাত্রীরা সে বাসের টিকিট পেলেও খুশি। তার জন্য আট-নয় ঘণ্টা অপেক্ষা করতেও কারও আপত্তি নেই।
মহাখালীর মতো একই অবস্থা গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাসটার্মিনালের। একটি টিকিটের জন্য হাহাকার। গাবতলী টার্মিনালে প্রত্যেকটি কাউন্টারের সামনে দেখা গেল যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন। সোহাগ পরিবহনের এক টিকিট মাস্টার জানালেন, এবারের ঈদে মাত্র তিনদিনের ছুটি, তাই ভিড় বেশি। গত ঈদেও প্রায় ৯ দিন ছুটি ছিল। এবার সবাই একই দিনে ঢাকা ছাড়ছেন বলে এত ভিড়।
ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি সব ঈদের মতো এবারও ছিল। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার নামে সাধারণ সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে পরিবহন কোম্পানিগুলো। প্রতি কাউন্টার থেকেই ভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারে এক উত্তর 'সাধারণ সময়ে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়া নেওয়া হয়। এখন নির্ধারিত হারেই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। কোথাও ভাড়া বৃদ্ধি পায়নি।'
লঞ্চ : সদর ঘাটে যাত্রী হয়রানি, ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে ওঠা আর নৌকার মাঝিদের পীড়াপীড়ি রোধ করতে পারেনি কেউ। অথচ নদীতে সার্বক্ষণিক রয়েছে কোস্টগার্ড আর ঘাটে রয়েছে র‌্যাব-পুলিশের কঠোর প্রহরা। তাদের চোখের সামনেই ঘটছে এমন ঘটনা। সদরঘাটের চিরচেনা রূপ পাল্টাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভিড় আর দুর্ভোগ। দুপুরের পর থেকে ভিড় হয় অস্বাভাবিক। নির্ধারিত সময়ের ৭-৮ ঘণ্টা আগেই যাত্রীরা লঞ্চটার্মিনালে জড়ো হতে শুরু করেন।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে যাত্রীদের। ডেকের ভাড়া সামান্য বেশি নেওয়া হলেও কেবিনের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে দুই/তিনগুণ বেশি। ঢাকা-বরিশাল রুটের এমবি পারাবত, এমবি সুরভিসহ বিভিন্ন লঞ্চের কেবিনের ভাড়া বেশি আদায় করা হয়েছে। তবে যাত্রীদের এমন অভিযোগ বরাবরের মতোই ভিত্তিহীন_ বলেছে মালিক পক্ষ। মালিক সমিতির নির্বাহী কর্মকর্তা ও সুন্দরবন নেভিগেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাইদুর রহমান রিন্টু বলেছেন, তারা সরকারের নির্ধারিত ভাড়া থেকে এক টাকাও বেশি নিচ্ছেন না।
অন্যদিকে লঞ্চযাত্রীদের চাপে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার মানুষকে প্রায় এক কিলোমিটার আগে থেকে হেঁটে টার্মিনালে যেতে হয়।
রেটিং দিন :
 
( এই লেখাটি পড়েছেন : ২৭০৫ জন )
 
আপনার মতামত দিন
*
*
Bangla Unijoy
Bangla Probhat
Bangla Phonetic
Bangla Phonetic Int.
English
*
* আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন
 
সম্পাদক: গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ.কে.আজাদ, ১৩৬, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
ফোন : ৮৮০২-৯৮৮৯৮২১, ৮৮০২-৯৮৮৭০৫, ৯৮৬১৪৫৭, ৯৮৬১৪০৮, ৮৮৫৩৯২৬ ফ্যাক্স : ৮৮০২-৮৮৫৫৯৮১, ৮৮৫৩৫৭৪
ই-মেইল :
info@samakal.com.bd
Powered By:orangebd