শুত্রুবার | ঢাকা ২৭ নভেম্বর ২০০৯ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪১৬ | ৯ জিলহজ ১৪৩০
সার্চ
আর্কাইভ
দিন :
মাস :
সাল :
টাকা আনা পাই
টাকা আনা পাই -এর আর্কাইভ
হারিয়ে যাচ্ছে মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী 'বাংলাপান'
0.04%
 
গড় রেটিং:
 
রেটিং :
Bookmark and Share
হাসানাত কামাল, মৌলভীবাজার
হারিয়ে যেতে বসেছে মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী বাংলাপান। ঔষধি পান হিসেবে পরিচিত স্থানীয় বাজারে এর চাহিদাও ব্যাপক। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, নানা দুর্যোগ ও উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে বাংলা পান চাষে কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। অনেকেই জীবন-জীবিকার তাগিদে পারিবারিক ঐতিহ্য ছেড়ে অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।
সরেজমিন মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের টুপির মহল, কাশিপুর, কাজিরচক, চাটিমেলাঘর, মরিচা, টিকরপাড়া, লামাকান্দি, দশঘড়ি ও হাজিপুর গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, তিলেতিলে বাংলাপান হারিয়ে যাওয়ার চিত্র। ওই গ্রামগুলোয় আগের মতো আর চোখে পড়ে না ছন, বাঁশের তৈরি পানের বরজ। সেখানে স্থান করে নিয়েছে অন্য ফসলি জমি। এর মধ্যে রবিশস্য ও ধানক্ষেতই বেশি। এলাকাবাসী জানান, মনু নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এ গ্রামগুলোর সিংহভাগ মানুষ জীবন-জীবিকার তাগিদে বাংলাপান চাষ করতেন। প্রতিটি পরিবারের দু'একটি পানের বরজ ছিল। পরিবারগুলো পান চাষের ওপর নির্ভরশীল ছিল। পানচাষি কণিকা দেব সমকালকে বলেন, একসময় পান চাষের আয় থেকে পারিবারিক খরচসহ ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চলত। এখন পান চাষের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেটা আর পোষে না। পানচাষি বিদ্যুৎ দে বলেন, পরিশ্রম বেশি হলেও বাংলাপান চাষ খুবই লাভজনক। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পানের বরজ তৈরির উপকরণ যেমন ছন, বাঁশের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। খৈলসহ জৈবসারের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে শ্রমিকের পারিশ্রমিকও। এছাড়া বন্যা ও খরায় পান চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে চাষিরা পান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।
চাষীরা জানান, মনু নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোয় প্রায় দেড়-দুইশ' বছর আগে পান চাষ শুরু হয়েছিল। নদী তীরবর্তী পলি মাটি পান চাষের জন্য খুবই উপযোগী। লাভজনকও বটে। চাষীরা জানান, চৈত্র, বৈশাখ মাসে ছন, বাঁশ দিয়ে পানের বরজ তৈরি করতে হয়। বরজ তৈরি করে চারা রোপণ করতে বিঘাপ্রতি খরচ হয় ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। আর বছরপ্রতি লাভ হয় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। একবার বরজ তৈরি করলে তিন-চার বছর পান উৎপাদন হয়ে থাকে। এছাড়া পানের সঙ্গে রবিশস্য শাকসবজি, লাউ, কুমড়া, মরিচ, বেগুন চাষ করা যায়। কিন্তু এখন সে অবস্থা পাল্টে গেছে। ছন, বাঁশ ও সারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আয়-ব্যয়ে পোষায় না। এ অবস্থায় কৃষকরা সম্ভাবনাময় বাংলাপান চাষে কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং সহজশর্তে কৃষিঋণ দেওয়ার দাবি করেন।
রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম চৌধুরী সমকালকে বলেন, কামারচাক ইউনিয়নে কিছুদিন আগেও ৩০ থেকে ৪০ একর জমিতে পান চাষ হয়েছে। কিন্তু নানা কারণে সেটা কমে গেছে। এখন মাত্র ২০ একর জমিতে বাংলা পান চাষ হচ্ছে। কৃষকদের বাংলাপান চাষে উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত পরামর্শ এবং কৃষিঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
রেটিং দিন :
 
( এই লেখাটি পড়েছেন : ১০৪৫ জন )
 
আপনার মতামত দিন
*
*
Bangla Unijoy
Bangla Probhat
Bangla Phonetic
Bangla Phonetic Int.
English
*
* আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন
 
সম্পাদক: গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ.কে.আজাদ, ১৩৬, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
ফোন : ৮৮০২-৯৮৮৯৮২১, ৮৮০২-৯৮৮৭০৫, ৯৮৬১৪৫৭, ৯৮৬১৪০৮, ৮৮৫৩৯২৬ ফ্যাক্স : ৮৮০২-৮৮৫৫৯৮১, ৮৮৫৩৫৭৪
ই-মেইল :
info@samakal.com.bd
Powered By:orangebd