জাঙ্ক কোম্পানির পরিচালকদের ঋণ সুবিধা বন্ধের উদ্যোগ
কিসমত খোন্দকার
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানি নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা করে না এবং লভ্যাংশ দেয় না সেসব কোম্পানির পরিচালককে ঋণ সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই পরিচালকরা যাতে ব্যাংকসহ কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ধরনের ঋণ নিতে না পারেন সে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেসঙ্গে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ওইসব কোম্পানির শেয়ার কিনলে সেক্ষেত্রে বেশি হারে ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানি নিয়মিত এজিএম ও লভ্যাংশ ঘোষণা করে না সাধারণত সেসব কোম্পানির শেয়ারকে 'জাঙ্ক শেয়ার' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
এছাড়া দেশের শেয়ারবাজারকে শক্তিশালী করতে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজার পরিস্থিতি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শেয়ারবাজার উন্নয়নে বৈঠকে নেওয়া ১০টি সিদ্ধান্ত অর্থ বিভাগ, আইন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) বাস্তবায়ন করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠকে পুঁজিবাজারে এক বছরের লক-ইন শর্তের ভিত্তিতে মিউচুয়াল ফান্ডের প্রাক-আইপিও অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। সেসঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ডের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ শেয়ার আইপিওর জন্য নির্ধারিত থাকবে। এছাড়াও একসঙ্গে অনেক মিউচুয়াল ফান্ড বাজারে ছাড়ার কারণে বাজারে যাতে কোনো ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া না হয় তা নিশ্চিত করতে মিউচুয়াল ফান্ড ধাপে ধাপে বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের প্রাইভেট প্লেসমেন্ট একেবারে বন্ধ বা এর পরিমাণ নূ্যনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনারও সিদ্ধান্ত হয়। সেসঙ্গে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য (ফেসভ্যালু) প্রমিতকরণ করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বৈঠকে সব কোম্পানির শেয়ারের
অভিহিত মূল্য ১০ টাকা অথবা ১০০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়। যদিও এরই মধ্যে এসইসির পরামর্শক কমিটির সভায় সব শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলো সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারে শেয়ার ছাড়তে পারে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে শুধু সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে শেয়ার ছাড়তে পারবে। ব্যক্তিখাতের কোম্পানিগুলো আইপিওর মাধ্যমে বাজারে শেয়ার ছাড়ার সুযোগ পাবে। তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এসইসির পরামর্শক কমিটির সভায় বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলোর জন্যও সরাসরি তালিকাভুক্তি সুবিধা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
শেয়ারবাজারের উন্নয়নে আরও সেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে_ বাজারে শেয়ার ছেড়ে কোনো কোম্পানিকে অর্থ সংগ্রহ করতে হলে ওই কোম্পানিকে অবশ্যই তার পরিশোধিত মূলধনের ৪০ শতাংশ শেয়ার প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ছাড়তে হবে, সেসঙ্গে সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির শেয়ার দ্রুততার সঙ্গে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে অর্থ বিভাগ, এসইসি ও আইসিবিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে দেশের শেয়ারবাজারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এসইসির তদারকি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সেসঙ্গে বাজারকে আরও গতিশীল, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাজারসংশ্লিষ্ট সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবানের জন্য প্রয়োজনীয় আইন-কানুন, বিধিনিষেধ সংশোধনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শেয়ারবাজার সংক্রান্ত মামলা দ্রুত পরিচালনার জন্য হাইকোর্টে আলাদা একটি বেঞ্চ গঠনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এসইসির একজন কর্মকর্তাকে সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব দিতে বলা হয়েছে।
 
Editor: Golam Sarwar
Published By: A.K. Azad, 136, Tejgaon Industrial Area, Dhaka - 1208, Phone: 8802-9889821,8802-988705, 9861457, 9861408, 8853926 Fax: 8802-8855981, 8853574, E-mail: info@samakal.com
If you feel any problem please contact us at: webinfo@samakal.com
Powered By:orangebd