গ্রামে বিদ্যুতের দাম বাড়ল
সমকাল প্রতিবেদক
সারাদেশে গ্রাম ও ছোট শহরগুলোতে বিদ্যুতের দাম বাড়ল। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) অধীনে গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম ৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তবে কৃষিকাজে সেচ পাম্পে ব্যবহৃত বিদ্যুতের দাম বাড়েনি। অন্যসব খরচ যুক্ত না করেই বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন এই দাম নির্ধারণ করেছে। বিভিন্ন খরচ যুক্ত হলে দাম বেড়ে ৮ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন। গ্রাম ও ছোট শহরে বসবাসকারী প্রায় এক কোটি গ্রাহকের ক্ষেত্রে বর্ধিত এই দাম ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার কারওয়ানবাজারে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন কমিশনের চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন। কমিশনের সদস্য মোঃ ইমদাদুল হক, সালাহউদদীন আহমেদ ও ড. সেলিম মাহমুদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানী ঢাকাসহ ৬টি বিভাগীয় শহর এবং পিডিবির সরবরাহকৃত বড় শহরগুলোতে বিদ্যুতের দাম বাড়বে না। শুধু পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদের ক্ষেত্রে দাম বাড়বে।
২০০২ সালের আগস্টে পল্লী বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। বিদ্যুতের দাম পুনর্নির্ধারণের ফলে আরইবির লোকসান ২৬৮ কোটি টাকা কমবে। অন্যসব খরচ যোগ না করে কেন দাম বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হলো_ এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে বিআইসির চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেন, কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী আরইবি তথ্য দেওয়ায় এ সমস্যা হয়েছে। তবে সব খরচ যুক্ত করলে বিদ্যুতের দাম বেড়ে ৮ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
আরইবি অধীনে ৭০টি সমিতির মাধ্যমে দেশের প্রায় ৪৮ হাজার গ্রামে বিভিন্ন শ্রেণীর ৭৮ লাখ ৪১ হাজার ৬৫০ জন গ্রাহক রয়েছে।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর আরইবি তাদের গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ বাড়ানোর জন্য বিইআরসির কাছে প্রস্তাব দেয়। বিইআরসি প্রস্তাবটি গ্রহণ করে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণে গত ৮ জুলাই শুনানির আয়োজন করে। সে হিসাবে ৯০ কার্যদিবসের শেষ দিনে গতকাল বিদ্যুতের দাম বাড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিইআরসি জানায়, আবাসিক গ্রাহকদের প্রথম ২৫ ইউনিটের দাম বাড়ানো হয়েছে তিন শতাংশ। প্রথম ১০০ ইউনিটের দাম সমিতি ভেদে প্রতি ইউনিটের জন্য ২ টাকা ৬৪ পয়সা থেকে ৩ টাকা তিন পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১০১ থেকে ৩০০ ইউনিট দুই টাকা ৮১ পয়সা থেকে তিন টাকা ২৩ পয়সা, ৩০০ ইউনিট থেকে ৫০০ ইউনিট ৪ টাকা ২৮ পয়সা থেকে ৪ টাকা ৫৬ পয়সা এবং ৫০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে তার দাম ৫ টাকা ৬৪ পয়সা থেকে ৬ টাকা ৭২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম সমিতি ভেদে ৫ টাকা ৬২ পয়সা থেকে ৬ টাকা ৭২ পয়সা করা হয়েছে। সেচের জন্য ২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৫ পয়সা, সাধারণ শিল্প ৪ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৪ টাকা ৫১ পয়সা, বৃহৎ শিল্প ৪ টাকা ১৮ পয়সা থেকে ৪ টাকা ৩৪ পয়সা করা হয়েছে। দাতব্য প্রতিষ্ঠানে ৩ টাকা ২৮ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৩৫ পয়সা এবং রাস্তার বাতির বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ১২ পয়সা থেকে ৪ টাকা ২৩ পয়সা করা হয়েছে।
এছাড়া আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রতি মাসের নূ্যনতম চার্জ ৬৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫, সার্ভিস চার্জ এক টাকা ও ডিমান্ড চার্জ দুই টাকা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রতি মাসের নূ্যনতম চার্জ সমিতি ভেদে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা, সার্ভিস চার্জ বাড়ানো হলেও ডিমান্ড চার্জ বাড়ানো হয়নি। সাধারণ শিল্পের ক্ষেত্রে প্রতি মাসের সার্ভিস চার্জ ৫ টাকা বাড়ানো হলেও ডিমান্ড চার্জ বাড়ানো হয়নি। বৃহৎ শিল্পের ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ ৩৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৬০ টাকা করা হয়েছে। তবে সেচ, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও রাস্তার বাতির ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ ও ডিমান্ড চার্জ বাড়ানো হয়নি।
আরইবির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে উপকেন্দ্র পর্যায়ে তাদের সিস্টেম লস ১২ দশমিক ২৩ শতাংশ। মোট বিদ্যুতায়িত লাইন দুই লাখ ১৯ হাজার ৫৪১ কিলোমিটার। গৃহস্থালি পর্যায়ের গ্রাহকই হচ্ছেন ৬৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩২০ জন। অন্যান্যের মধ্যে বাণিজ্যিক গ্রাহক ৭ লাখ ৮২ হাজার ৪৮ জন। শিল্প গ্রাহক ১ লাখ ২৮ হাজার ২৫৫। সেচ গ্রাহক এ বছর হবে ২ লাখ ৪৬ হাজার। এছাড়া রয়েছে ১৪ হাজারের মতো রাস্তার বাতির সংযোগ ও অন্যান্য গ্রাহক।
কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, কমিশন পল্লীবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সিস্টেম লসকে যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আরইবিকে ৬ মাসের একটি কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। আরইবি কমিশনের কাছে এ কর্মসূচির অগ্রগতি সম্পর্কে ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে হবে। একইসঙ্গে দেশের বিরাজমান বিদ্যুৎ ঘাটতির প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিকে চলমান রাখতে এবং লোডশেডিংয়ের কারণে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করতে ডিমান্ড সাইড ম্যানেজমেন্ট নীতি অনুসরণ করে বিদ্যুৎ বিতরণ দক্ষতা বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, সেবার মান উন্নয়নে টেকনিক্যাল কোয়ালিটি অব সার্ভিস নীতির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বেস্ট প্র্যাকটিসগুলো গ্রহণ করবে। অবিলম্বে এ কাজ শুরু করতে হবে এবং আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমিশনে তা দাখিল করতে হবে। এ কর্মসূচিতে সেবার মান, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে আরইবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপযুক্ত পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এছাড়া কমিশন যথা সময়ে বিল আদায়ের পাশাপাশি বকেয়া পাওনা অবিলম্বে আদায়ের জন্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেয়।
 
Editor: Golam Sarwar
Published By: A.K. Azad, 136, Tejgaon Industrial Area, Dhaka - 1208, Phone: 8802-9889821,8802-988705, 9861457, 9861408, 8853926 Fax: 8802-8855981, 8853574, E-mail: info@samakal.com
If you feel any problem please contact us at: webinfo@samakal.com
Powered By:orangebd